আজ, বৃহস্পতিবার | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ



ঘড়ির মেকানিক করে অনার্সে ভালো ফল শাহাদাতের, কথিত অযুহাতে পুলিশ ধৃত করায় ভর্তি হতে পারেনি মাষ্টার্সে

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে বা টুলে বসে বসে মেকানিকের কাজ করা নিজের পড়ালেখার খরচ যোগান দেয়া সেই ছোট্ট ছেলে শাহাদাত হোসেন শাহেদ। বাবার কাজ (ঘড়ির মেকানিক) রপ্ত করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলো খুবই ভালো ভাবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থা থেকে বাবার সাথে আসা যাওয়া করা শাহাদাত বর্তমানে অনার্সে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।
কঠোর পরিশ্রমী শাহাদাতকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর বাড়ি থেকে মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ফারুক আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ কিংবা মামলা না থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ে তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের পুরাতন একটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে আদালতে সোপর্দ করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের (বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি) একাধিক নেতারা জানান, ছেলেটি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কোন রাজপথে মিছিল মিটিংয়ে ছিলোনা। এমনকি বিগত ৫ বছর ধরে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় ছিল। তার ফেসবুকেও কোন ধরনের উসকানি মূলক পোস্টও নেই। এমন একজন শান্তসৃষ্ট ও পরিশ্রমী ছেলে শাহাদাত পেশায় একজন ঘড়ির মেকানিক। এক সময়ে ছাত্র রাজনীতি করা অবস্থায়ও ছিল ৫ ওয়াক্ত নামাজি ছেলে হিসেবে। হয়তো পারিবারিক শত্রুতার জেরে তার বিরুদ্ধে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে আটক করিয়েছে কে বা কারা? কৃতি শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের বাড়ি বিএমচর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম নুরুল হোসেন (প্রকাশ ঘড়ির মেকানিক নুর হোসেন)।
শাহাদাত চলতি সনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়াস্থ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে অনার্স পাশ করেছে। ফলাফলও হয়েছে অত্যন্ত ভালো। রেজাল্ট পাওয়ার পর চট্টগ্রাম মহসিন কলেজে মাষ্টার্সের এডমিশন নেওয়ার কথা ছিল শাহাদাতের। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা ও ভুল তথ্যের কারণে মাষ্টার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি। সম্প্রতি সময় থেকে শাহাদাত উত্তরা ব্যাংক চকরিয়া শাখায় চাকুরিরত আছেন।
পরিবারের সদস্যরা তার উচ্চ শিক্ষা লাভে বিজ্ঞ আদালতের কাছে বিশেষ বিবেচনায় জামিনে মুক্তি দাবী জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব পুলিশের। তাতে কোনধরনের নিরীহ লোকজন যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়টি সামনে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।