আজ, বৃহস্পতিবার | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ায় মাদ্রাসা পরিচালককে সাজানো ঘটনায় ফাঁসানোর অভিযোগ, নির্দোষ দাবী পরিবারের

চকরিয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছড়ারকুলস্থ ফাঁসিয়াখালী আদর্শ ইসলামীক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা এইচ এম জামালুদ্দীন তাওহীদকে শালিসের কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে সাজানো ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

 মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি করে বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে মাওলানা জামালুদ্দিনের পরিবার।

 

সংবাদ সম্মেলনে জালালুদ্দিনের স্ত্রী রুজিনা আক্তার বলেন, আমার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে তার সহপাঠী সাকিব প্রায় সময় উত্যাক্ত করে এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেয়। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় কয়েক দিন আগে আমার মেয়েকে মুখের মধ্যে খামচি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। বিষয়টি মেয়ের বাবা মাদ্রাসার পরিচালক জানতে পেরে ছাত্র সাকিবকে শাসন করে এবং ভবিষ্যতে এধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বারণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাকিবের মা পারভীন আক্তার স্থানীয় কতিপয় মহলের ইন্ধনে বলাৎকারের নাটক সাজিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় বৈঠকের কথা বলে মাওলানা জামালুদ্দিন তাওহীদকে সুকৌশলে ডেকে নিয়ে  আটক করে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সাজানো ঘটনার রহস্য উদঘাটন পূর্বক মাওলানা জালালুদ্দিন তাওহীদ এর মুক্তির দাবি করেন তিনি। এসময় মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। সে জানান, ক্লাস শেষের ঘটনাটি ছিল ৮মে বৃহস্পতিবার, ১১ মে রোববারে কোন ঘটনা ঘটেনি। সে ছিল সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী। নীচ তলা থেকে সাকিব সহ তারা দুইজনকে নিয়ে হুজুর শুধু একটি বাক্স পরিস্কার করান। তারপর নীচে সুমাইয়া মেডামের কাছে কোচিং করতে চলে আসেন। এ ছাড়া আর কোন ঘটনাই ঘটেনি। হুজুরের বিরুদ্ধে যা বলছে সব মিথ্যে ও সাজানো।

 

এদিকে, বাংলাদেশ হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের চকরিয়া উপজেলা সভাপতি হাফেজ আমিরুল ইসলাম বলেন, হাফেজ মাওলানা জালালুদ্দিন তাওহীদ হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয়  ও কক্সবাজার জেলার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি চরমোনাই পীরের সংগঠন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা কমিটিরও সেক্রেটারী।

গত ১১ মে কথিত ঘটনা দাবি করে মামলা পরবর্তী তাকে আটক করা হলেও প্রকৃত পক্ষে সেই দিন হাফেজ মাওলানা জালালুদ্দিন তাওহীদ ছিলেন কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রামে ব্যবস্থাপনায়। যার ভিডিও চিত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল লোকেশন সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ পূর্বক হাফেজ মাওলানা জালালুদ্দিন তাওহীদ এর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি। মাওলানা তাওহীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন পেকুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ রশিদ, সহসভাপতি হাফেজ  মোঃ জাকের হোসাইন ও সেক্রেটারি হাফেজ নুর মোহাম্মদ।

জানাগেছে, মাদরাসা ও পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধে বিগত সময়ে আরো একটি এ ধরণের মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মাওলানা জামাল উদ্দিন তৌহিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। ওই মামলাটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে বেখসুর খালাস পেয়েছেন। এমনকি বর্তমানে একটি পক্ষ আদালতের সামনে গিয়ে মাওলানা জামাল উদ্দিন তৌহিদ তার প্রতিষ্ঠিত ফাঁসিয়াখালী আদর্শ ইসলামীক একাডেমিসহ ওই এলাকা ত্যাগ করে চলে গেলে নতুন করে দেয়া মামলাটি প্রত্যাহার করিয়ে দেবেন।