
চকরিয়ায় ৩৫জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, ১৫টি কিরিছ ও ৪টি অস্ত্র নিয়ে হত্যাসহ হামলার পরিকল্পনা মোবাইল রেকর্ডে ফাঁস হয়েছে। হামলার পরিকল্পনাকারীদের সন্ধেহ হলে সাজ্জাদ হোসেন নামে এক যুবককে ধরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চেক করলে হামলার পরিকল্পনার রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য ফাঁস হয়। সে বিএমচর কাছারী মোড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে অসংখ্য মামলা বিচারাধীন ও গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ জামিন না নেওয়া হত্যার চেষ্টার মামলা রয়েছে। এনিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সিকদার পাড়া গ্রামের নুরুল আবছারের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, তাদের পক্ষের মোহাম্মদ ইসহাক(৪৯),বেলাল উদ্দিন(৪১) সহ বেশ কয়েকজনকে পারিবারিক জায়গা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতা মূলক বি.এম ইউনিয়নের ষ্টোর ষ্টেশন চলাচল রাস্তায় বিগত ১৪আগষ্ট’২০২৪ইং পথরোধ করে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আহতরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখনো পরিপূর্ণ সুস্থ্য হতে পারেননি, পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন যাপন করছেন। এনিয়ে থানায় ১৮ জনের নামে জিআর মামলা রেকর্ড হয়। মামলা হলেও প্রতিপক্ষ আসামীদের কথায় গত এক বছরে কোন আসামী আটক করেনি পুলিশ। এমনকি মামলার চার্জসীটও আদালতে প্রেরণ করেননি।
বিএমচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কাছারীপাড়ার ছিদ্দিক আহমদের পুত্র হুয়ায়ন কবির, বেতুয়ারকুল গ্রামের ছৈয়দ আহমদের পুত্র জসিম উদ্দিন প্র: লসু ও কাছারী মোড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন সংঘবদ্ধ হয়ে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরের পরে হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকে। বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র মারফত ভূক্তভোগি পূর্বে থেকে হামলার শিকার পরিবার অবগত হলে ঘটনার আসল রহস্য বের করতে উল্লেখিত যুবক সাজ্জাদকে টার্গেট করেন তারা। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাজ্জাদকে ষ্টোর ষ্টেশনে জনসম্মুখে ধরে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেট চেক করেন। মোবাইলের ইম্যু ও হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস চেক করে দেখতে পান উল্লেখিত হুমায়ুন ও জসিমসহ বিভিন্ন জনের সাথে ভয়েস রেকর্ডে একজন বলছেন আমাকে একটি লম্বা কিরিছ দাও। প্রতিউত্তরে বলছেন, ঈদের পরে আবার ইসহাক ও বেলাল গংদের সাথে ঘটনা করার জন্য ৩৫জন লোক, ১৫টি কিরিছি ও ৪টি অস্ত্র রেখেছি। এখন কিরিছ দেয়া যাবেনা। ঘটনায় হত্যা করা হতে পারে, গুলিও চলবে. ইত্যাদি। এদিকে, উক্ত বিষয়ে স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশ, থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দের এসআই মুহিবুল্লাহকে মোবাইল রেকর্ডসহ সার্বিক বিষয়ে অবগত করলে তিনি উল্টো ধমক দেন এবং মোবাইলের রেকর্ড সংরক্ষণকে মোবাইল ছিনতাই মর্মে উল্লেখ করেন (কথা বলার কল রেকর্ড সংরক্ষিত)। পুলিশ ফাঁড়ির অসহযোগিতার কারণে অসহায় পরিবার আরো বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে, গোপন তথ্যের রেকর্ড সংরক্ষণের মোবাইল রাখা এবং পূর্বের ঘটনার আবারো পূণরাবৃত্তি ঘটিয়ে যেকোন মুহুর্তে প্রাণঘাতিসহ মারাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তারা উর্ধতন প্রশাসন, সেনা বাহিনী, র্যাব ও বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মামলার আসামী জসিম উদ্দিন প্রতিনিয়তই বিদেশে অবৈধ মাদক ইয়াবা ও গাজা চালান করে আসছে। কোন কারণে ধরা খেলে পুলিশকে ম্যানেজ করে নিরীহ লোকজন কিংবা গাড়ী চালকদের উপর চাপিয়ে দেয় তার অপরাধের দায়ভার। এছাড়াও আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা নং জি.আর ৩১৮/২৪, জি.আর ১৪৩/২০২৪ইং, জি.আর ২৫৫/২০২৪ইং, জি.আর ০৫/২০২৪ইং, জি.আর ২৫০/২০১৬ইং, জি.আর ৫০৯/২০১২ইং, জি.আর ৪৮৪/২০১৮ইং, জি.আর ৫৮৩/২০১৭ইং, জি.আর ৩০৮/২০১৭ইং, জি.আর ২৭১/২০১৬ইং, সি.আর ১৫৭৮/২০২৩ইং, সি.আর ১৮১৫/২০২২ইং, সি.আর ২০২৮/২০২৩ইং সহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। মোবাইলের রেকর্ডসহ সার্বিক বিষয়ে খবরাখবর নিতে মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে



© 2021 - All Rights Reversed Coxs TV | Web Developed by Hostbuzz Inc