আজ, বৃহস্পতিবার | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ায় মানবপাচার চক্রের ফান্দে পড়ে সর্বশান্ত অসহায় পরিবার, অবশেষে জেল হাজতে প্রতারক রমজান

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়ায় এক মানবপাচার চক্রের ফান্দে সর্বশান্ত অসহায় একটি পরিবার। বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ ও ঘর বন্ধক দিয়ে নেয়া টাকায় জাল ভীসা দেয়ার কারণে বিদেশ যেতে না পারায় ঋণের কিস্তির চাপের মুখে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে মামলা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতের নজরে আনা হলে অবশেষে পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে প্রতারক রমজান আলী। উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড উলুবনিয়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনাটি। এনিয়ে ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিনের স্ত্রী হালিমা বেগম বাদী হয়ে চকরিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামী রমজান আলীর বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।   অভিযুক্ত প্রতারক রজমান আলী একই এলাকার মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র।

প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় মানবপাচারকারী প্রতারক জেলে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার অন্যতম সহযোগি আপন ভাই জনৈক ওকিল পরিচয়দানকারী সিরাজ ভীসার টাকার সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি না করে উল্টো প্রতারক ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে এলাকার সাধারণ জনগনের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মামলার আর্জি ও অভিযোগে জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড উলুবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে উলুবনিয়া ও ডুলাহাজারাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদেশে লোক নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা প্রলোভন সহজ সরল লোকদের কাছ থেকে প্রতারণা মুলক লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় এবং মানব পাচার চক্র হিসাবে কাজ করে আসছে।  বিগত ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর একই এলাকার নুরুল কবিরের পুত্র জামাল উদ্দিনের সাথে ৩০০ টাকার নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে “কাজিস্থানের ভিসা বিক্রয়ের চুক্তিনামা” সম্পাদন পূর্বক ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন প্রতারক রমজান। চুক্তিপত্রে কাজিস্থান নাম উল্লেখ করলেও মূলত: উক্ত দেশের নাম- কীরগীজিস্তান।  ২০২৩ সনের ৭মে তারিখ হতে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে ধারাবাহিকভাবে যোগাড় করে এসে চুক্তিনামা সৃজনের দিন সমুদয় টাকা এককালীন পরিশোধ করেন। চুক্তিপত্রে শর্ত ছিল, চুক্তির তারিখ হতে পরবর্তী ০১ মাসের মধ্যে জমালকে কীরগীজিস্তানের ভিসা প্রদান করে প্রবাসে নিয়ে যাবেন। জামাল একজন দিনমজুর। দিনে লবনের শ্রমিক, রাতে মৎস্য ঘেরে চাকুরী করে সংসার চালায়।

মামলার বাদী জামাল উদ্দিনের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, চুক্তিপত্র সম্পাদন পরবর্তী তার স্বামী জামালকে পর পর দুইবার ভুয়া ভিসা ও বিমানের টিকেট দিয়ে ঢাকাস্থ বিমান বন্দরে পাঠায়। ইমিগ্রেশনে  বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, উক্ত ভিসা ও বিমানের টিকেট জাল। ফলে তার স্বামী বিদেশে যাইতে ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর প্রতারক রমজানের সাথে  যোগাযোগ করে ভিসার টাকা ফেরত চাহিলে আজ দিবে, কাল দিবে মর্মে কালক্ষেপন করে। এনিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে চকরিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে

২০২৫সনের ৪ ফেব্রুয়ারী মামলাটি করেন। আদালত সরাসরি আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রতারক রমজানকে ভাই জনৈক ওকিল পরিচয় দাতা সিরাজ তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। অসহায় ভুক্তভোগী জামালকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলায় আসামী করে হয়রাণী করার এবং আদাম পাচারকারী প্রতারক ভাইকে জামিনে এনে বড় ধরণের ঘটনা করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতারক জামাল এলাকার আরো অসংখ্য মানুষ থেকে ভীসার দিয়ে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে এভাবে পথে বসেছে জামালের মত অনেক পরিবার। তারা প্রশাসনের কাছে আইনি সহায়তা কামনা করেছেন।