আজ, শুক্রবার | ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



প্রেসিডেন্টের মৃত্যু, কী হবে এখন ইরানে

ছবি ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার

বিশ্ব সংবাদ :

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি। রোববার ইরান-আজারবাইজান সীমান্তবর্তী একটি জলাধার উদ্বোধন করে ফেরার পথে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের ‘দিরমাজ’ জঙ্গলের আকাশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

 

এই হেলিকপ্টারে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তাবরিজের গভর্নর ও তাবরিজের জুমার নামাজের ইমাম ছিলেন।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার খবর প্রচারিত হওয়ার পরে পুরো ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রেসিডেন্ট রাইসি স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পালনকালে ইরানি জনগণের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছেছিল। অত্যন্ত সাধাসিধে জীবনযাপন, সদাচারণ এবং ব্যাপক পরিশ্রম করার কারণে মানুষ তাকে ভালোবাসত। দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করেছেন।

নিঃসন্দেহে এমন একজন প্রেসিডেন্টের মৃত্যু মেনে নেয়া ইরানি জনগণের জন্য সহজ ছিল না। তারা দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দলে দলে মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে সমবেত হয়ে আল্লাহর দরবারে প্রেসিডেন্টের সুস্থতার জন্য দোয়া করতে থাকেন। রোববার সারারাত একদিকে চলে উদ্ধার তৎপরতা অন্যদিকে চলে দেশবাসীর দোয়া। কিন্তু ইরান সময় সোমবার সকাল ৭টার দিকে খবর আসে হেলিকপ্টারের কোনো আরোহী বেঁচে নেই।

প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন?

ইরানের সংবিধানের ১৩১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে: মৃত্যু, বরখাস্ত, পদত্যাগ কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রেসিডেন্ট দুই মাসের বেশি অনুপস্থিত থাকলে অথবা প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনো কারণে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেরি হলে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনক্রম প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার ও বিচার বিভাগের প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ পরবর্তী ৫০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।

বর্তমানে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোখবের। গতকাল হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই তার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা অনুমোদন করলে এখন তিনি আগামী ৫০ দিনের জন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হাতে চলে যাবে রাষ্ট্রের দায়িত্বভার।

এখন প্রেসিডেন্ট রাইসির শাহাদাতের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে এবং গত প্রায় পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান বিগত বছরগুলোতে এর চেয়েও কঠিন সময় খুব ভালোভাবে পার করে এসেছে এবং নিজের বয়সের পূর্ণতা প্রমাণ করেছে। যেমনটি প্রবাদে বলা হয়েছে, “যা তোমাকে হত্যা করতে পারবে না তা তোমাকে শক্তিশালী করবে।