আজ, বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ



জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তাই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি

সম্পাদকীয় ডেক্স  কক্স টিভি ঃ
দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা ক্রমেই আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ প্রায় সব খাতেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো সেই অনুপাতে সমন্বয় করা হয়নি। ফলে অনেক কর্মচারীর আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মচারীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা শুধু কল্যাণমূলক বিষয় নয়, বরং দক্ষ ও কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলার পূর্বশর্ত। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন না থাকলে কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ, কর্মোদ্যম ও সেবার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। দেশের ইতিহাসে দুটি পে-স্কেলের মধ্যে এত দীর্ঘ ব্যবধান বিরল। এ সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, করোনা মহামারির প্রভাব এবং ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়; এটি বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের আয়কে সমন্বয় করার একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য এটি স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমান জীবনমান, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজন।