আজ, শনিবার | ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ



চকরিয়াবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জমজম হাসপাতালের

 অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী জমজম হাসপাতাল পিএলসি’এর সম্মেলন কক্ষে ৪ আগষ্ট (মঙ্গলবার) সকাল ১১ ঘটিকায় কর্মরত প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ​সংবাদ সম্মেলন করেছে হাসপতালটি। লিখিত বক্তব্যে জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ৩০ জুলাই মাত্র ৩ দিন বয়সের ‘আফরা মনি’ নামের এক নবজাতককে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের অধীনে ভর্তি করা হয়। ৩ দিন সফল চিকিৎসার পর গত ২ আগস্ট শিশুটি সুস্থ হলে ডাক্তার তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেন।

​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে জানান: ​সংগী (এটেনডেন্ট)-এর অনুরোধে ৪ দিনের সিট ভাড়ার স্থলে ৩ দিনের বিল ধার্য্য করা হয়।

​মোট বিল হয়েছিল ৮,০৫০ টাকা। তবে রোগীর পরিবারের অনুরোধে ২ দফায় ১৩৫০ টাকা ছাড় দিয়ে সর্বমোট ৬,৭০০ টাকা গ্রহণ করা হয়, যা প্রদান করে সুস্থ নবজাতক নিয়ে অভিভাবক স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরে যান।

 

​চিকিৎসা চলাকালীন বা বিল পরিষদের সময় রোগীর স্বজনদের সাথে হাসপাতাল পরিচালক ফখরুল আনাম, ফাইনান্স ডিরেক্টর জিএম রুকুন উদ্দীন বা এমডির কোনো প্রকার তর্ক-বিতর্ক বা বাকবিতণ্ডা হয়নি। ​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবেও রোগীপক্ষ কোনো অভিযোগ করেনি।

 

​কিন্তু পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী সিণ্ডিকেট এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি করে। সেই দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আংশিক বিলের ফটোকপি ও এডিটিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “২১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ”, “২১০০ টাকা ডাক্তার ফি” ইত্যাদি মনগড়া শিরোনামে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

​চিকিৎসা খরচের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: রোগীদের সেবার কথা মাথায় রেখে এখানে  সর্বনিম্ন মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।​বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফি: মাত্র ৫০০ টাকা। ​মেডিকেল অফিসার (MBBS) ফি: মাত্র ২০০ টাকা। ​সিট ভাড়া: মাত্র ৭০০ টাকা (যা প্রায় এক বছর পূর্ব থেকে অপরিবর্তিত)।

​ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে দিনে ২-৩ বার চিকিৎসক দেখলেও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয় না। এমনকি দরিদ্র রোগীদের ১০% পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়।

​এছাড়া প্রতি শুক্রবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ২০ জনেরও বেশি নামকরা অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই হাসপাতালে রোগী দেখেন। যেখানে চট্টগ্রাম শহরের তুলনায় অনেক কম ফি (৬০০-৭০০ টাকা) নেওয়া হয়। এই হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, ডায়ালিসিস ইউনিট, ফিজিওথেরাপি, ট্রমা সেন্টার এবং উন্নত ল্যাব সুবিধা রয়েছে, যা আশপাশের অনেক হাসপাতালেও নেই।

 

​সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, এ ধরনের মিথ্যা প্রচার ও কসাইখানা আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে ভবিষ্যতে এ এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং চকরিয়ায় কোনো নামি-দামি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসে চিকিৎসা সেবা দিতে উৎসাহিত হবেন না। মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চকরিয়াবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্য রাখেন জমজম হাসপাতাল পিএলসি’র সিইও ও সিঃ ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ গোলাম কবির, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৌলানা আবদুল করিম, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিএম রুকুন উদ্দিন প্রমূখ।

এছাড়াও হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর ফয়েজুর রহমান, এফসিপিএস (শিশু) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ হেনরিয়েটা গোমেজ, গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ নাসিমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।