চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার রিংভং রহমানিয়া দাখিল মাদরাসায় সুপারের পদকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ এর দায়ে বহিষ্কৃত সুপার মো. মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা বা বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন করে বোর্ডের জারিকৃত পুনর্বহালের আদেশ পুনর্বিবেচনা ও স্থগিতের আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে রিট মামলার ভিত্তিতে বোর্ড পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেয়, সেই রিটটি ২০২৬ সালের ১১ জুন হাইকোর্ট “Rule is discharged for non-prosecution” মর্মে নিষ্পত্তি করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, আবেদনকারীর আইনজীবী তার মক্কেলের নির্দেশে রিটটি আর পরিচালনা করবেন না মর্মে আবেদন করেন। ফলে রুলটি খারিজ হয়ে যায় এবং মামলার ভিত্তিতে কোনো কার্যকর আইনগত অধিকার অবশিষ্ট থাকে না।
ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবি করেন, এ আদালতের আদেশের পরও পূর্বের রিটকে কার্যকর দেখিয়ে বোর্ডে উপস্থাপন করা হয় এবং সেই ভিত্তিতে পুনর্বহালের আদেশ নেওয়া হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বোর্ডকে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে আদেশ স্থগিত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের জারি করা পুনর্বহাল-সংক্রান্ত আদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতের প্রকৃত আদেশের আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরো উল্লেখ্যযে, উক্ত বহিষ্কারকৃত সুপার এর বিরুদ্ধে অত্র মাদরাসার সাবেক সভাপতি কর্তৃক অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে তদন্ত চলমান থাকলেও কোন অদৃশ্য শক্তির কারষে তা শেষ হচ্ছে না। তা নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।
তবে, এ বিষয়ে বহিষ্কৃত সুপার মো. মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।



© 2021 - All Rights Reversed Coxs TV | Web Developed by Hostbuzz Inc