আজ, মঙ্গলবার | ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ার বিএমচরে জমি জবর দখল চেষ্টা ও চাঁদাবাজীর প্রমাণ মিলেছে

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছৈন্নারমারঘোনা গ্রামে এক শিক্ষিত ও অসহায় পরিবারের জমি জবর দখল চেষ্টা ও চাঁদাবাজী করার বিষয়টি প্রমাণ মিলেছে। ভুক্তভোগি পরিবার এবিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তা আমলে নিয়ে সিআইডি কক্সবাজারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশনা মতে চাঁদাবাজীসহ অভিযোগের সত্যতা রয়েছে মর্মে সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এদিকে আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি আসামীরা জানতে পেরে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

বিএমচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড দক্ষিন বহদ্দারকাটা গ্রামের জমি মালিক আবদুর রহমানের কন্যা ও শাহ আলমের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চকরিয়া, কক্সবাজারে উক্ত সিআর মামলা নং-২১৯১/২০২৩ (চকরিয়া) দায়ের করেন।
এতে আসামী করা হয়েছে; বিএমচর পূর্ব ছৈন্নারমারঘোনা ২নং ওয়ার্ডের মতিউর রহমানের পুত্র মোক্তার আহমদ, মনির আহমদের পুত্র আনসার উদ্দিন, মোক্তার আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যম ছৈন্নারমারঘোনা, ১নং ওয়ার্ডের মৃত নুর আহমদের পুত্র মোঃ সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ আব্দু ছত্তার, পূর্ব বড় ভেওলা ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিন চরপাড়ার মৃত গুরা মিয়ার পুত্র ফেরদৌস আহমদ, বিএমচর ১নং ওয়ার্ড খাস পাড়া গ্রামের মৃত জাফর আলমের পুত্র মোহাম্মদ মোক্তার মিয়া, মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র মোঃ ইউনুছ, মৃত মোস্তাক আহমদের পুত্র নুরুল আবছার, মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র শাহ আলমের বিরুদ্ধে তদন্তে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাঁদাবাজীসহ একাধিক ধারায় সত্যতা পেয়েছেন মর্মে প্রতিবেদন দেন।
মামলার আর্জিতে জানানো হয়েছে, চকরিয়া থানার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়া মৌজার ছৈনম্মারঘোনা এলাকায় ২আগষ্ট’২৩ ইং উক্ত ঘটনাটি ঘটে।

আবদুর রহমানের বড় কন্যা বাদী মরিয়ম খাতুন ও বড় ছেলে মোঃ গিয়াস উদ্দিন অভিযোগে জানান, বাদীর পিতা বিগত ০৯/০২/১৯৮৫ইং তারিখ ৬৫১ নং কবলা মুলে জনৈক গুল মেহেরের নিকট খতিয়ান নং-৩৪৭ এর দাগ নং ২৭৫০ এ ২৭ শতাংশ এবং ২৬২৭ এ ১৩ শতাংশ সহ মোট ৪০ শতাংশ জমি জমি ক্রয় করে। আবদুর রহমানের তিন ছেলে ও সাত মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে বাদীনিকে উক্ত ৪০ শতাংশ জমি মৌখিক ভাবে দান করে । এরপর থেকেই বাদীনি উক্ত জমিতে ভোগদখল করে আসছে।
এনিয়ে আবদুর রহমানের নামে নামজারী খতিয়ান নং-১৩৭৬ সৃজনসহ জমির নিয়োমিত খাজনাদি পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু অভিযুক্তদের জমির কোন ধরণের মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও অবৈধ দখলে রেখে এবং দখল ছাড়লে ১ লাখ টাক চাদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি প্রদান করে। সর্বশেষ গত ২আগষ্ট’২৩ইং সকাল ১০ ঘটিকায় জমিতে দিনমুজুর দিয়ে ধানের চারা রোপনকালে হামলে পড়ে এবং রোপনকৃত ১৫ হাজার টাকার ধানের চারা নষ্ট করে।
জানাগেছে, উক্ত ঘটনায় আদালতে অত্র মামলাটি দায়ের করলে, আদালতে মামলাটি সিআইডি কক্সবাজারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি, কক্সবাজার জেলার পুলিশ পরিদর্শক(নিরস্ত্র) রিপন কুমার চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করায় পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৪২৭/৫০৬ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।