আজ, বুধবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ার হাজিয়ানে মামলা খারিজের পরও সন্ত্রাসী কায়দায় জমি জবর দখল চেষ্টা!

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
চকরিয়ায় আদালত কর্তৃক বাদীর দায়েরকৃত মামলা খারিজ করে দেয়ার পরও চাঁদা চেয়ে না পেয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিবাদী পক্ষের দীর্ঘ ভোগ দখলীয় জমিতে প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্যাক্টর দিয়ে জমি কেটেছে । উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর হাজিয়ান গ্রামে ৩আগষ্ট দুপুরে ঘটেছে এ ঘটনা।
ওই গ্রামের মৃত গুরা মিয়ার পুত্র মো: আশরাফুল ইসলাম, মৃত জবর মুলুকের পুত্র মোঃ সুমন, হারুনুর রশিদ ও চিরিঙ্গা বাশঘাট রোড এলাকার জকরিয়ার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এ ঘটনা করে। এনিয়ে ভুক্তভোগি পরিবারের মরহুম মৌ: শামশুল হুদার পুত্র রুহুল আমিন গং বাদী হয়ে ৯৯৯ এর মাধ্যমে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ পৌছে স্থিস্তাবস্থা নিশ্চিত করে।

অভিযোগে জানাগেছে, মরহুম মৌ: শামশুল হুদা গং এর বিগত ১৯এপ্রিল’১৯৮৪ইং তাং ১৭৫৩ কবলায় ১৫ শতক জমি খরিদ করেন। তন্মধ্যে হাজিয়ান মৌজায় ৭ শতক ও লোটনী মৌজায় ৮ শতক। এছাড়া আর.এস ১৩৭নং খতিয়ানের আর এস ৬নং দাগে হাজী শফর মুল্লুকের নামে ১৭ শতক জমি রেকর্ড চুড়ান্ত প্রচার আছে। তুলনা মুলক বি.এস ১৪৬নং খতিয়ান এর বি.এস ১২,১৩,২০,২১ দাগে হামলাকারী পক্ষের ভিটা ও নাল জমি দখলে থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে জবর দখল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতিপূর্বে জমি মালিক শামসুল হুদা গংয়ের বিরুদ্ধে হামলাকারী দখলবাজরা কক্সবাজারের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কক্সবাজারে মামলা নং এমআর ১৪০৫/২০২২ দায়ের করেন। মামলাটি সহকারি কমিশনার(ভুমি) চকরিয়াকে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কাকারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। এতে উল্লেখ করেন, সরেজমিন তদন্তকালে বাদীগণের উল্লেখিত দলিল মূলে বিবাদীগণের পিতা কর্তৃক বাদী/বিবাদীগণের পূর্ববর্তীকে জমি বিক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। প্রতিবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (এডিএম কোর্ট) স্মারক মূলে জমা দেয়া হলে আদালত তা আমলে নিয়ে মামলা খারিজ করে বিবাদী গনের পক্ষে রায় দেন। উক্ত রায়টি প্রচারিত হওয়ার পর অভিযুক্ত এমআর মামলার বাদী পক্ষ বিবাদীগন থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় চাঁদা দাবী করেন।দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে জোরপূর্বক জমি জবর দখলে নিতে যায়। ইতিপূর্বেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় ৭আগষ্ট’২০২২ইং সাধারণ ডায়েরী নং- ৩৪৩ দায়ের করেন। অভিযোগটি সত্য মর্মে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানা থেকে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়ে ননএফআইআর মামলা হিসেবে রুজু হয়। এছাড়াও সহকারি জজ আদালত চকরিয়া কক্সবাজার অপর মামলা নং- ৬৫/২০১৫ইং অস্থায়ী
নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সর্বশেষ ৩আগষ্ট’২৩ইং দুপুরে জমি জবর দখলের খবর পেয়ে থানার এএসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশ টীম ঘটনাস্থলে পৌছে স্থিস্তিবস্থা নিশ্চিত করেন।