মাঝরাতে বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশায় উঠেছিলেন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমীন (১৪)। চালকের ক্ষুধা লেগেছে জেনে নিজের কাছে থাকা ১০০ টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছিলেন রুটি ও কলা। তবে সেই সরল বিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতিদান তাজমীন পেলেন এক রোমহর্ষক নৃশংসতায়। ‘শর্টকাট’ রাস্তায় দ্রুত বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ ও মাথায় পা চেপে ধরে হত্যা করা হয়।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের কাছে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, নিহত তাজমীন পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত। তাদের মূল বাড়ি যশোর জেলায়। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ৩০০ টাকায় ভাড়া করে তাজমীন।
যাত্রাপথে শর্টকাটে যাওয়ার কথা বলে অটোরিকশাটি নূরজাহান হোটেলের সামনে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুর রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেন চালক সুমন। বিজরা বাজার এলাকায় একটি নির্জন স্থানে পৌঁছে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলে তাজমীন ভয় পেয়ে যায়। এলাকাটি অচেনা মনে হওয়ায় সে নামার চেষ্টা করতেই সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে ধস্তাধস্তি শুরু করে। তাজমীন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে সুমন। পরে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাজমীনকে ধানক্ষেতে উপুড় করে ফেলে মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর তাজমীনের ব্যবহৃত দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে অটোরিকশা ও ভ্যানিটি ব্যাগটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে সটকে পড়ে ঘাতক। কাছের কাঁচিকাটা মসজিদের পুকুরে গোসল করে বাখরাবাদ এলাকার এক জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে সে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে ফোন ও ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমীন তার বাবাকে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল, তবে বাবা সেটি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাননি। ভোরের দিকে তাজমীনের বাবা ওই লোকেশন ধরে খুঁজতে গিয়ে মেয়ের লাশ ও পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান।
পুলিশ কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে মেয়েটিকে শান্ত অবস্থায় অটোরিকশায় বসে থাকতে দেখা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে চালক সুমনের একক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তবে মেয়েটি গত ৪ তারিখ থেকে নিখোঁজ থাকলেও পরিবার কোনো জিডি করেনি। ওই চার দিন সে কোথায় ছিল এবং কার সঙ্গে ছিল–তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া আসামির স্বীকারোক্তি থাকলেও ধর্ষণের চূড়ান্ত প্রমাণের জন্য ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।’
গ্রেফতার সুমনের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



© 2021 - All Rights Reversed Coxs TV | Web Developed by Hostbuzz Inc