আজ, সোমবার | ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ায় মসজিদের ভেতরে জুমার নামাজ শেষে ফের বর্বরতা, আহত ৪

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী সোসাইটি বায়তুল মাওয়া শাহী জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটি ও মুসল্লীদের উপর ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকালে মসজিদের সভাপতি নাসির উদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছোট ভাই মহিউদ্দিনসহ ৪জন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। তবে, তাৎক্ষনিকভাবে থানা পুলিশের কঠোরতায় বড় ধরণের সংঘাত থেকে মুক্তি পায় সাধারণ মুসল্লীরা।

প্রাপ্ত তথ্যে ও অভিযোগে জানান, এদিন ছিল পবিত্র জুমাবার। মসজিদে পূর্বে থেকে ধর্মীয় আলোচনা, খুৎবা, নামাজ আদায়, মিলাদ, কিয়াম ও মোনাজাত সব কিছু শেষ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মত। অপরদিকে, মসজিদে বিবাদমান দু’গ্রুপের দু’পক্ষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত। নামাজ শেষে দু’গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়া সভাপতি নাসির উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসাইনের যৌথ সমন্বয়ে একমত পোষণের ভিত্তিতে দুইজন একসাথে দাঁড়িয়ে দু’পক্ষের লোকজনকে শান্ত থেকে কোন ধরণের ঘটনা না করে স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যাওয়ার জন্য বলার চেষ্টা করেন। জাহাঙ্গীরের পরামর্শে নাসির দাঁড়িয়ে কথা বলার শুরুতে বলেন, জাহাঙ্গীর মামার পরামর্শে আমি একটি কথা বলতে চাচ্ছি। ওই সময় কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই হোসাইনঙ্গীর মারমুখী আচরণ ও গালমন্ধ করে উত্তেজিত হয়ে উঠলে জাহাঙ্গীর তার ভাইদের নিভৃত করেন। ওই মুহুর্তে সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দারের পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে নাসিরের উপর প্রকাশ্যে হামলার চেষ্টা করে। তাকে বাঁচাতে তার ছোট ভাই মহি উদ্দিন (৪৫) এগিয়ে গেলে মহিউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে নাকে, চোখে সহ শরীরের বিভিন্ন গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে অপরাপর মুসল্লীরা এগিয়ে আসলে মসজিদের সম্পাদক লায়ন আলমগীরের পরিবারের ৪সদস্যও আহত হয়েছেন। পরে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন থানা পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) এসএম রকীব উর রাজা ও থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
এদিকে, মসজিদের ভেতরে সংঘর্ষের মত একই ধরণের ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটায় সাধারণ মুসল্লী ও সচেতন মহলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তারা প্রশাসনের কাছে মসজিদে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ের প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন।

সোসাইটি বায়তুল মাওয়া শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোঃ আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিগত ৯বছর জাহাঙ্গীর-শহিদ গং এবং এরপূর্বে ৫ বছর হায়দার-শহিদ গং মোট ১৪ বছর ধরে মসজিদের আয়ের কোটি কোটি টাকা কোন ধরণের হিসাব বিহীন খরচ ও লুটপাট করেছে। তারা ৩ বছরের জন্য নতুন কমিটি এসে পূর্বের সব হিসাব চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কথিত কমিটি গঠন নাটক ও পবিত্র স্থান মসজিদের ভেতরে হামলার মত জঘন্য ঘটনা করেছে। তাদের অবৈধ কমিটি স্ট্রে করে সংশ্লিষ্টদের রুল দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। তারা হাইকোর্টের ওই আদেশের প্রতিও এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করছেন। অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও হুমকি ধমকি না দিয়ে সাহস থাকলে আইনিভাবে মোকাবেলা করুন। কারণ মসজিদ আল্লাহর ঘর, অর্থ লুটপাট করার জায়গা নয়।

চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত ছিল। নামাজও শান্তপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এরপরও নামাজ শেষে বিশৃঙ্খল ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভিডিও ফুটেজ দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।