আজ, শুক্রবার | ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



পেকুয়ায় মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে নিউজ করা সাংবাদিককে নিরাপত্তা দিতে পুলিশকে আদালতের নির্দেশ

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
ইয়াবা সাথে পাচারকারীদের মোবাইল ও মোটরসাইকেল জব্দের ঘটনায় মামলার পরিবর্তে জিডি রুজু করে মাদক কারবারীদের সুবিধা দেওয়ার ঘটনায় স্বপ্রনোদিত হয়ে মামলা রুজু ও সাংবাদিককে নিরাপত্তা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ৪ জুন চকরিয়া সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন এই আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, গত ৮ মে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের কক্সবাজার বার্তা পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় পুলিশ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদটি আদ্যোপান্ত মনোযোগ সহকারে পাঠ ও পর্যালোচনা করে আদালত জানতে পারে, পেকুয়া থানাধীন টৈটং ইউনিয়নের পন্ডিত বাড়ি এলাকার নির্মাণাধীন নতুন ওয়াসা ভবনের সামনে রাস্তার ওপর হতে স্থানীয় লোকজন ও চৌকিদারের নিকট সন্দেহজনক মনে হওয়ায় একটি মোটরসাইকেলকে থামানোর সংকেত দিলে মোটরসাইকেল আরোহী ও চালক গাড়িটি ব্রেক করে রাস্তার ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিধিমতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জিডিতে বর্ণিত সাক্ষীদের সম্মুখে লাল রঙের একটি মোটরসাইকেল, এর মিটারের ওপর থেকে সচল একটি মোবাইল (০১৮১২৯৪৭৮৮৬), ডানপাশের লুকিং গ্লাসের সাথে ঝুলানো একটি হেলমেট ও মোটরসাইকেলের সিট খুলে এর নীচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার পরবর্তী পরিত্যক্ত উল্লেখ করে জব্দ তালিকা মূলে থানায় জিডি দায়ের করেন।

আদেশে আরো বলা হয়, আদালতের বিবেচনায় উক্ত ঘটনা একটি আমলযোগ্য ও ঘৃণ্য মাদক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ঘটনা। এ ঘটনায় জব্দকৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল সিম রেজিষ্ট্রেশন যুক্ত। সেহেতু মোটরসাইকেলের মালিকানা যাচাই করে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জব্দকৃত মোবাইল সিমের মালিকানা যাচাই করে মাদক বহনকারী পলাতক আসামীর নাম-ঠিকানা সহজে বের করা সম্ভবপর ছিলো। যেহেতু মাদক পরিবহনের মতো ঘৃণ্য আমলযোগ্য ঘটনার আসামীকে আইনের আওতায় আনা সমীচীন। সেহেতু আলোচ্য ঘটনার পলাতক অজ্ঞাত আসামী দিয়ে নিয়মিত জিআর মামলা দায়ের করে তদন্ত করার আইনগত ব্যবস্থা ও সুযোগ ছিলো। এমতাবস্থায় বর্ণিত সংবাদটি অত্র আদালতের জ্ঞান ও অবগতিতে এবং সামগ্রিক বিবেচনায় সংবাদের বর্ণিত ঘটনায় দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের অপরাধ মাদকদ্রব্য আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা মোতাবেক আমলে নেয়া হলো। সংবাদে বর্ণিত ও সংগঠিত অপরাধ বিচার নিষ্পত্তির সুবিধার্থে স্বতন্ত্র নথি (৩/২০২৩) খোলা হলো। উক্ত ঘটনার জড়িত আসামী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্দেহভাজন যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।

উক্ত আদেশে সংবাদ পরিবেশনকারী সাহসী ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক উল্লেখ করে তাঁকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পেকুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, এসব আদেশ প্রতিপালন করে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে আদালতলে অবহিত করার জন্য পেকুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

সংবাদ পরিবেশনকারী সাংবাদিক ইমরান হোসাইন বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে দেয়া আদালতের আদেশ আমি পেয়েছি। তবে, সংবাদটি পরিবেশের পরে মাদক কারবারিরা আমার ওপর একদফা হামলা চালিয়েছে। অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি আমার প্রাণনাশের আশংকা করছি। পুলিশের পক্ষ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। প্রথম থেকে আমার মনে হয়েছে পুলিশের অবস্থান মাদক পাচারকারীদের পক্ষে।##