আজ, বুধবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পৈত্রিক পুকুরের ভরাট জমিতে গেরেজ নির্মাণকালে চাঁদা দাবী করে হামলা, আহত ৬

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা জনতা মার্কেট রোড সংলগ্ন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদীর পৈত্রিক পুকুরের ভরাট জমিতে গাড়ী রাখার গেরেজ নির্মাণকালে হত্যা মামলার চার্জসীটভুক্ত আসামী জাফর কোম্পানীর নেতৃত্বে চাঁদা দাবী করে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জমি দেখবালের দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার, রাজমেস্ত্রী ও সহকারিসহ ৬জন আহত হয়েছে। ২জুন’২৩ইং জুমার নামাজের পর দুপুর ২ঘটিকার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সুযোগে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এঘটনায় চকরিয়া পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার মৃত আমির হামজার পুত্র ও চেয়ারম্যানের জমির কেয়ারটেকার ওলা মিয়া (৪০) বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে; একই এলাকার মৃত মোজাহের আহামদ কোম্পানীর পুত্র যথাক্রমে খোরশেদ আলম (২৫), জাফর আলম (৫৫), শাহ আলম (৫০), সামশুল আলম (৪৫), মনসুর আলম (৪২)সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনকে।

অভিযোগে জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদীর পৈত্রিক স্বত্ব দখলীয় বসতভীটার শত বছরের পুকুরটি নিজেদের প্রয়োজনে ভরাট করে পাকা বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করেন। উক্ত জমিতে গাড়ীর গ্যারেজ নির্মাণের কাজ পরিচালনা করছিলেন চেয়ারম্যানের জায়গা-জমির পরিচালক (কেয়ার টেকার) ওলা মিয়া ও রাজমেস্ত্রী এবং শ্রমিকরা।
অভিযোগে আরো জানান, জুমার নামাজের পর হঠাৎ করে অভিযুক্তরা জবর দখল ও দূর্লোভের বশীভূত হয়ে হাতে বন্দুক, ধারালো দা, কিরিচ, লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠিসহ মারাত্মক দেশীয় অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমির কেয়ারটেকারের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে ৫ লক্ষ টাকা সন্ত্রাসী কায়দায় চাঁদা দাবী করে এবং কাজে বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে কেয়ারটেকার ওলা মিয়া ও রাজমেস্ত্রীদেরকে চারিদিকে ঘিরিয়া আক্রমণ ও
অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিকল্পিত উক্ত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাদী মৃত আমির হামজার পুত্র কেয়ার টেকার ওলা মিয়া (৪০), হালকাকারা জনতা মার্কেট এলাকার বশির আহামদের পুত্র দেলোয়ার হোসেন (৪০), মৃত নজির উদ্দিনের পুত্র তৌহিদুল ইসলাম (২৮), মৃত আব্বাছ আহামদের পুত্র হেলাল উদ্দিন (২৬)কে। এসময় চিৎকার শুনে চেয়ারম্যানের বাড়ির দারোয়ান জয়নাল উদ্দিন এগিয়ে গেলে তাকেও সর্বশরীরে লোহার রড দিয়ে আঘাত ও হত্যার চেষ্টা্রয গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে। পরে স্থানীয় স্থানীয় লোকজন চারিদিক হতে এগিয়ে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ইউনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার জখমের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণকে অবগত করার পর অভিযুক্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন। অভিযুক্তরা বর্তমানেও অশ্লীল গালি-গালাজ ও হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত জাফর আলম কোম্পানীর বিরুদ্ধে বরইতলীতে মোর্শেদ আলম হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, হামলা, জবর দখলসহ বিভিন্ন রয়েছে। তিনি পিবিআই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিক গ্রেফতারসহ জেল খেতেছেন বলে অভিযোগ করেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, হালকাকারা জনতা মার্কেট রোড সংলগ্ন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদীর পৈত্রিক পুকুরের ভরাট জমিতে গেরেজ নির্মাণকালে হামলার ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হামলায় আহতরা। পূর্বের ফাইল ছবিতে মোর্শেদ হত্যা মামলায় তৎকালীন সময়ে পিবিআই এর হাতে গ্রেফতার জাফর আলম।