আজ, সোমবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ার লক্ষ্যারচরে পুলিশ কর্মকর্তার ঘুষিতে দাঁত ভাঙল কলেজ ছাত্রের, মামলা

চকরিয়া প্রতিনিধি ।।
চকরিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার ঘুষিতে এক কলেজ ছাত্রের দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে । এনিয়ে ৭আগষ্ট (রবিবার) আহত কলেজ ছাত্রের বড়ভাই বাদি হয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহিদ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার কাগজপত্র সূত্র জানায়, গ্রামে শিশু-কিশোরদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া এলাকায় স্থানীয় নুরুল আমিন সওদাগরের সঙ্গে হাবিবুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন রাত নয়টার দিকে শিকলঘাট স্টেশনে হাবিবুর রহমান ও তাঁর ভাই কক্সবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলা করেন চট্টগ্রাম হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুবিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁর আত্মীয়-স্বজনেরা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, এসআই মুবিনুল ইসলাম ঘুষি মেরে কলেজ ছাত্র মোস্তাফিজের একটি দাঁত উপড়ে ফেলে ও দুটি দাঁত মারাত্মকভাবে জখম করেন। পরে আহত কলেজ ছাত্রকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। দায়েরকৃত মামলার অন্য আসামিরা হলেন পুলিশ কর্মকর্তার ভাই আবরারুল আমিন রনি, বাবা নুরুল আমিন ও চাচা আব্দুল হক। মামলার বাদি হাবিবুর রহমান বলেন, এঘটনার পরপরই চকরিয়া থানায় লিখিত এজাহার দেয়া হয়। পুলিশ সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ দিলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তার তদবিরে চকরিয়া থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।

এ কারণে রোববার চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করি। বাদীর আইনজীবী ওমর ফারুক ও মিফতাহ উদ্দিন বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল কনার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে মামলার আসামি চট্টগ্রাম হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুবিনুল ইসলামকে ফোন দেয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি আর ফোন ধরেননি। এসএমএস পাঠানো হলেও জবাব দেননি।
হামলার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বিজ্ঞ আদালত ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আইনী সহায়তা চেয়েছেন। তারা জানান, বর্তমানে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারের লোকজন ও ভাড়াটিয়া মাস্তান সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি ধমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি তারা নিজ বাড়িতে পর্যন্ত যাওয়া আসাসহ অবস্থান নিতে পারছেননা।