আজ, বুধবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



চকরিয়া-মানিকপুর সড়কে ডাকাতির দুইটি মোটরসাইকেল সহ নগদ টাকা লুট, আহত ৭

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
চকরিয়া উপজেলাধীন সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর কুইট্যার ছড়া দক্ষিণ পাশে মানিকপুর সড়কে ১১জুন’২২ইং রাত আনুমানিক ৯.৪৫ ঘটিকার দিকে সড়ক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ৭জন। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়েগেছে দুইটি মোটরসাইকেল, নদগ টাকা,মোবাইল সেটসহ বিভিন্ন মালামাল।
এ ঘটনায় কাকারা পাহাড়তলী, ৯নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা মোঃ ইছাহাকের পুত্র ডাকাতির শিকার প্রাক্তন এম.ইউ.পি মোঃ বাদশা মিয়া (৪০) বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এতে ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত ডাকাতদের মধ্যে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর, ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রশিদ আহামদের পুত্র আমজাদ হোসেন ছোটন (২৭) ও আবুল কালামের পুত্র তৌহিদ (২৮) মুখোষ পরিহিত অজ্ঞাত নামা আরো ৫/৬ জন অবৈধ অস্ত্রধারী ডাকাতকে আসামী করা হয়েছে।
ডাকাতির কবলে পড়া বাদী বাদশা মেম্বার জানান, তিনি একটি আর.টি.আর মোটর সাইকেল নং- কক্সবাজার-ল-১১-৯৩৫০ (যাহার মূল্য- ১লাখ ৮০ হাজার টাকা) গাড়ী চালিয়ে মাঝের ফাড়ী ষ্টেশন হতে ব্যবসায়িক কাজ শেষে মানিকপুর নতুন বাজার যাওয়ার পথে মানিকপুর কুইট্যার ছড়া দক্ষিণ পাশে পৌঁছলে অভিযুক্ত ডাকাতদল হাতে বন্দুক, ধারালো দা, ছোরা, লোহার হাতুড়ী, ইত্যাদি দেশীয় অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তার পাশে ওৎপেতে থাকা অবস্থা হতে এগিয়ে প্রথমে তার (বাদীর) মোটরসাইকেল গাড়ীর গতিরোধ করে আক্রমণ চালায়। তন্মধ্যে দুইজন ডাকাতকে মোটর সাইকেলের আলোতে দেখে চিনতে পারলে এইভাবে আক্রমণ করার কারণ কি জিজ্ঞাসা করলে,ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এবং তার সাথে থাকা দক্ষিণ কাকারা গ্রামের মোঃ ইসালামের পুত্র মোঃ মিজান (৪৩)কে এলোপাতাড়ীভাবে কিল, লাথি, জখম করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাহাদের হাতে থাকা অবৈধ বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি ঘটনাস্থল সংলগ্ন পাহাড়ের নির্জনস্থানে নিয়ে হাত পা বেধে অবরুদ্ধ করে রাখে। এর পর মানিকপুর, ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাষ্টার নুরুল ইসলামের পুত্র আবদুল মালেক রুবেল (৩৮) তার পিতা মাষ্টার নুরুল ইসলামকে নিয়ে তাদের ব্যবহৃত একটি ১১০ সি.সি মোটর সাইকেল (নং- ঢাকামেট্রো-হ-৩৬-৭৫৩১, যাহার মূল্য- ১লাখ ১৫ হাজার টাকা) এবং সি.এন.জি গাড়ীর চালক কাকারা পাহাড়তলী গ্রামের আজম খানের পুত্র বোরহান (৩৫) তার সি.এন.জি গাড়ী চালিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছলে সি.এন.জি গাড়ীতে থাকা যাত্রী মানিকপুর, ২নং ওয়ার্ডের ছিদ্দিক আহামদের পুত্র আবুল হোছন (৪৩), আবুল হাসেমের পুত্র মোঃ হারুন (২৯)কে অস্ত্রের মুখে বেধম মারধরে গুরুতর জখম করে নির্জনস্থানে নিয়ে অবরুদ্ধ করিয়া রাখে। এসময় অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ২টি মোটর সাইকেল, বাদীর ১টি স্কীন টার্চ মোবাইল সেট, মূল্য ১২ হাজার টাকা, নগদ ৩৫হাজার টাকা, ১টি হাত ঘড়ি, মূল্য – ১হাজার একশত টাকা, দ্বিতীয় জনের নগদ ৬,৭০০ টাকা, ১টি স্কীন টার্চ মোবাইল সেট, মূল্য- ১৬,০০০ টাকা, ৩য় জনের নগদ ৫,৫০০ টাকা, ১টি স্কীন টার্চ মোবাইল সেট, মূল্য- ১৭,০০০ টাকা, ৪র্থ জনের নগদ ৪,৭০০ টাকা, ১টি বাটন মোবাইল সেট, মূল্য- ১,২০০ টাকা, ৫ম ব্যক্তির গাড়ী ভাড়ার নগদ ১,৮০০ টাকা, ১টি বাটন মোবাইল সেট, মূল্য- ৭০০ টাকা নিয়া ফেলে। সড়কে আরো গাড়ী আসতে থাকলে ডাকাতরা কৌশলে উল্লেখিত মোটর সাইকেল ২টি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের পৃথক কয়েকটি ঘটনাস্থলে পৌছলেও কোন ডাকাতকে গ্রেফতার কিংবা ডাকাতির মালামাল ও গাড়ী উদ্ধার করতে পারেনি। পরে ডাকাতির কবলে পড়া আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, সড়কে ডাকাতির সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে দেয়া লিখিত এজাহারটি তদন্ত করে দেখতে উপপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উত্থাপিত মোটরসাইকেল দুইটি উদ্ধার ও ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে, ঘটনাটি ডাকাতি নাকি পূর্বশত্রুতার তাও দেখা হচ্ছে।