আজ, শুক্রবার | ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



গাইনী ডাক্তার না হয়েও চকরিয়ায় নিয়মিত রোগীর পেট কাটছেন ডাঃ মন্নান

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
বেসরকারি এনজিও সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) কর্তৃক কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডাঃ মামদুহা রহমান’কে। একই ভাবে ওনার স্বামী ডাঃ আবদুল মান্নানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারী বিভাগ। ডাঃ৷ আবদুল মান্নান গাইনী বিভাগের ডাক্তার না হয়েও চকরিয়ার বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগীদের সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পেট কেটে ডেলিভারী করানোসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োমিত চেম্বার করার কথা থাকলেও চাকুরী টিকিয়ে রাখার জন্য সাপ্তাহে দুএকদিন অল্প সময়ের জন্য সেখানে চেম্বার করেন তিনি। বিশেষ অনুরোধে প্যারা ডাক্তার হিসেবে সাপ্তাহে সোমবার স্বল্প সময়ের জন্য চেম্বার করেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু শুক্রবারসহ প্রতিদিন সকাল-বিকাল রোগী দেখেন চকরিয়া মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে। আবার একই সময়ে প্রচারপত্র অনুযায়ী রোগী দেখার সময়সূচি রয়েছে চকরিয়া ম্যাক্স হসপিটাল এবং চকরিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে। তিনি গাইনি কনসালটেন্ট না হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবর্তী মহিলা রোগিদের নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করেন। যা পুরোপুরি নিয়ম বহির্ভুত বলে জানান একাধিক মেডিকেল অফিসার। একজন ডাক্তার সরকারি হাসপাতাল সহ বেসরকারি এত গুলো হাসপাতালে কিভাবে একসাথে চেম্বার করেন। অথচঃ তাকেও এনজিও সংস্থা সিআইপিআরবি থেকে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা মাসিক বেতন দেওয়া হয়। যা ৫ জন বিসিএস ডিগ্রিধারী সরকারি ডাক্তারও এ সমপরিমাণ বেতন পান না বলে শোনা যায়! বিষয়টি সচেতন মহল, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এই দুইজন চিকিৎসক এনজিও সংস্থার অধীনস্থ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম ফাঁকি দিয়ে কিভাবে এমন কর্মযজ্ঞ চালাতে পারে? বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও এনজিও সংস্থা সিআইপিআরবিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

ডেলিভারী রোগগীদের নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করেন উল্লেখ করে ডাঃ আবদুল মন্নান বলেন, যেখানে গাইনী কনসালটেন্টরা ফেল মারে, সেখানে তাদের উদ্ধার করার জন্য আমাকে রাখা হয়েছে। অসংখ্য এমবিবিএস ডাক্তাররা সিজারিয়ান অপারেশন করতে পারলে আমি সার্জারীর উপর এমএস করেও কেন ডেলিভারি করতে পারবো না? বাইরে চেম্বারের বিষয়ে এনজিও কর্তৃক কোন কন্ডিশন নেই। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করার বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান তিনি। ,

এদিকে, এনজিও সংস্থা থেকে মাসিক দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা বেতন নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের বিনামূল্যে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ডাঃ মামদোহা রহমান অধিকাংশ সময় দেন প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কৌশলে প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ডাঃ মামদুহা রহমান ও তার স্বামী ডাঃ আব্দুল মন্নানের বিরুদ্ধে।
এ বিষেয়ে জানতে চাইলে ডাঃ মামদুহা রহমান জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখেন। অন্য সময়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চেম্বার করলেও অনকলে গিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রুগী দেখে আসার কথা জানান তিনি।

সিআইপিআরবি এর কক্সবাজারের কো-অর্ডিনেটর ডাঃ মোঃ হাসান জানান, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার স্বল্পতার কারনে রোগীরা যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনজিও কর্তৃক কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক তাদের দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। কেউ যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন না করে প্রাইভেট চেম্বারে বেশি সময় ধরে রোগী দেখে থাকে। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##