আজ, সোমবার | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



বাচামিয়া ঘোনা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানার ২৫ তম বার্ষিক সভা ও পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কক্সবাজার  প্রতিনিধি 

বাচামিয়া ঘোনা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানার ২৫ তম বার্ষিক সভা ও পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাচামিয়া ঘোনা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানার বার্ষিক সভা ও পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মাননীয় মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধূরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৭ নং ওয়ার্ডের সম্মানিত কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপুসহ আরো অনেকে। সভাপতিত্ব করেন বাচা মিয়ার ঘোনা মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা সলিমুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম। প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আমিন উল্লাহর সুযোগ্য সন্তান বর্তমান মাদ্রাসা পরিচালক রহমত উল্লাহ্ রিজা। প্রধান বক্তার মূল্যবান আলোচনা পেশ করেন কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান কুতুবদিয়া পাড়া মহিউছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার, কলাতলী সুপিবাগ জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব কক্সবাজার এর স্বনামধন্য, সুপরিচিত ও সুমিষ্ট কন্ঠের অধিকারী তরুন উদীয়মান জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা হাফেজ মাওলানা ওয়াহিদুল ইসলাম জিহাদী। সভার প্রধান আকর্ষন দুইজন ছাত্রকে পাগড়ী প্রদান ও বিশেষ পুরষ্কার প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও নসীহত পেশ করেন বদর মোকাম জামে মসজিদের মান্যবর পেশ ইমাম ও খতিব জনাব মাওলানা আব্দুল খালেক নিজামী সাহেব। এতে আরও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামগণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপু বলেন, এলাকার মসজিদ মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমাজপতিদের এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র কোরবানের বরাত কিংবা বিবাহ অনুষ্ঠানের দাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবেনা। প্রত্যেক এলাকার সমাজ কমিটিগুলোকে এলাকার চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, রাহাজানি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাস্তাঘাটসহ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য সোচ্চার হতে হবে। সর্বোপরি তিনি যুব সমাজকে নামাযের আহবানসহ মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। ৭ নং ওয়ার্ডের প্রত্যেক মহল্লার মসজিদে যুবক ও বয়স্কদের কোরআন শিক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস নেওয়ার জন্য হুজুরদের প্রতি আহবান জানান। সেক্ষেত্র তিনি উক্ত মহতি কাজে হুজুরদের সম্মানিসহ সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দেন। এবং অতি দ্রুত সময়ে বাচা মিয়ার ঘোনা রোডের কাজ শুরু করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও তিনি ঘোষনা প্রদান করেন, আসন্ন রমজানে যারা আল্লাহর হুকুম মানার প্রয়াসে আল্লাহকে ভয় করে টানা ৪০ দিন জামাতে নামায আদায় করবে তাদেরকে ঈদের কেনাকাটা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান বক্তা হাফেজ মাওলানা ওয়াহিদুল ইসলাম জিহাদী তার আলোচনায় বলেন, কেয়ামতের কঠিন মসিবতের সময় প্রখর সূর্যতাপে ৭ শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়াতলে থাকবে। এ বিষয়সহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তার অসাধারণ মধুমাখা সূররিত কন্ঠের যাদুতে সুন্দর, সাবলীল ও মনমুগ্ধকর আলোচনা পেশ করেন। তিনি বলেন ঐ ৭ শ্রেণীর মানুষ হল তারা, যারা আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া পাবেনঃ
১. ন্যায়পরায়ন শাসক।
২. যৌবনকালে এবাদতে মসগুল যুবক যুবতী।
৩. যার অন্তরে সার্বক্ষনিক নামাযের জন্য একটা টান থাকে।
৪. আল্লাহকে খুশি করার জন্য একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করা এবং আল্লাহ্ নারাজ হয়, এমন কর্মকান্ডে লিপ্তদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা। তবে চেষ্টা করা ঐ খারাপ বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষীকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনার।
৫. সুদর্শন বা ধর্নাঢ্য কোন নর বা নারী কুপ্রস্তাব দিলে আল্লাহকে ভয় করে তা ফিরিয়ে দেওয়া।
৬. আল্লাহর রাস্তায় কিংবা ফকির মিসকিন, গরীব ও অসহায় মানুষকে গোপনে দান করা।
৭. নির্জনে একাগ্রচিত্তে যে কোন সময় পাক পবিত্রময় অবস্থায় আল্লাহর জিকির করা।
পরিশেষে মাদ্রাসাসহ পরিচালক, শিক্ষক শিক্ষিকা ও এলাকাবাসীসহ সকলের সার্বিক সুস্থতা ও কল্যানের জন্য এবং যারা মারা গিয়েছেন তাদের সকলের রুহের মাগফিরাত কামনায় মুনাজাত করা হয়।’