আজ, বুধবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন বদরখালি ইউনিয়নের কুতুবদিয়াপাড়া গ্রামে টমটম চালক জিসান’কে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যাকান্ডের আলোচিত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামী এবং মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল র‌্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার

 

 

 

 

কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন বদরখালি ইউনিয়নের কুতুবদিয়াপাড়া গ্রামে টমটম চালক জিসান’কে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যাকান্ডের আলোচিত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামী এবং মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল র‌্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার

১। র‌্যাব-১৫ শুরু থেকেই নিজ দায়িত্বাধীন কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, জলদস্যু, ডাকাত, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গী দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকসহ দেশে বিরাজমান দমন এবং এ সকল অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। একই সাথে বিভিন্ন অপরাধের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১৫ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

২। গত ২৭ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ রাত অনুমান ০১.০০ ঘটিকার সময় কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন বদরখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ কুতুবদিয়াপাড়া এলাকায় টমটম চালক জিসান’কে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যাকারীরা মূলত বাবু’র নেতৃত্বে গড়ে উঠা স্থানীয় একটি গ্যাং এর সদস্য। এই গ্যাং এর সদস্যরা মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, মারামারিসহ সকল ধরণের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নিহত জিসান এই চক্রের গ্রেফতারকৃত রুবেল এর একটি অটো ভাড়ায় চালাতো। এই সুবাধে রুবেল প্রায়শই জিসানকে মাদক পরিবহনের জন্য চাপ দিত। কিন্তু জিসান তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে জিসানের প্রতি এই চক্রের একটি ক্ষোভ তৈরী হয়। ঘটনার দিন জিসান রাত ১০ টার মধ্যে গাড়ি গ্যারেজে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সে যাত্রী নিয়ে চকরিয়াতে যাওয়াতে আসতে দেরী হয়। জিসান যখন অটোটি নিয়ে গ্যারেজে আসে তখন রুবেল জিসানকে চুরির অপরাধ দেয় এবং বাবু’সহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্যারেজে ডেকে নিয়ে চালক জিসানকে রাতভর কিল, ঘুষি, লাথিসহ লোহার রড ও কাঠের বাঠাম দিয়ে নির্মমভাবে পাশবিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে ভিকটিমের এর অবস্থা আশংকাজনক হলে তারা স্থানীয় মেম্বারকে কল দিয়ে ভিকটিমকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। পরবর্তীতে মেম্বার পরিবারের সদস্যসহ গ্যারেজে এসে ভিকটিমকে মুমূর্ষু অবস্থায় পায় এবং দ্রুত তাকে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৩। নির্মমভাবে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘঠিত এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও হত্যার সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরবর্তীতে নিহতের পিতা বাদী হয়ে এজাহানামীয় ০৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ৩৫/৫৫০ তাং ২৯/১১/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।

৪। বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত হওয়া মাত্রই র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে এবং গত ৩০ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি পশ্চিম সিকপাড়া এলাকা থেকে মূলহোতা ফাহাদ বাবু (এজাহারনামীয় ২নং আসামী), মোঃ সায়েম (এজাহারনামীয় ৩নং আসামী) এবং মোঃ মিজান (সন্দিগ্ধ আসামী) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। একই সাথে র‌্যাব-১৫ বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য এজাহারভূক্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তৎপরতা চলমান রাখে।

৫। এরই ধারাবাহিকতায়, অদ্য ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ অনুমান ১৬.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১৫, কক্সবাজারের একটি চৌকস আভিযানিক দল বান্দরবান জেলার লামা থানাধীন ছনখোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামী এবং মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ রুবেল (২৫), পিতা-মোঃ ইউসুপ আলী, সাং-কুতুবদিয়াপাড়া, বদরখালি ইউনিয়ন, চকরিয়া, কক্সবাজার’কে গ্রেফতার করে।

৬। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রুবেল ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত রুবেল বাবু’র নেতৃত্বে গঠিত গ্যাং এর একজন সদস্য। এই গ্যাং এর সদস্যরা মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, বিভিন্ন প্রজেক্ট/প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে থাকে। এই সুবাদে সে তার নিজের টমটম গাড়ি গ্যাং এর মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতো।

৭। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ধন্যবাদ।