আজ, মঙ্গলবার | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



মাদকসেবিদের কারণে শহরে বেড়েছে ছিনতাই

মাদকসেবিদের কারণে শহরে বেড়েছে ছিনতাই

সরওয়ার সাকিবঃ

শহরে দিন দিন বেড়ে চলছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তরা মাদকের টাকা জোগাড়ে করছে ছিনতাই। মাদক সেবনকারীরা বেশিরভাগ স্কুল কলেজের ছাত্র। টেকনাফ ও উখিয়াতে অবস্থানকারি রোহিঙ্গারা অবাধে যাতায়াত করতে পারার কারণে রোহিঙ্গা শিবিরি থেকে এসে রাতে কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে তারা অবস্থান করে ছিনতাই ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কাজ করে আবারো সকাল হতে না হতেই তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিওে যায় বলে তথ্য রয়েছে। তবে তাদের এই সিন্ডিকেট পরিচালনায় স্থানীয় কিছু যুবকদের ইন্ধন আছে বলে জানা যায়। যদি গোয়েন্দা বিভাগ তৎপর হয় তবে তা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধান জানা যায়,শহরের কস্তুরাঘাট, শৈবাল পয়েন্ট, পৌর প্রিপ্যারাটরি স্কুল মাট,মাজির ঘাট, পেশকারপাড়া,ঘোনারপাড়া,নাজিরারটেক,খুরুশকুল ব্রিজে নিচে,সমুদ্রের নির্জন জায়গায় এছাড়া শহরের বিভিন্ন মাঠে-ঘাটে দিন দুপুরে চলছে মাদক সেবন। মাদকাসক্তরা গাঁজা, ইয়াবা, দেশিয় মদ সেবন করছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। মাদকাসক্তরা তাদেও কোন আয় নাথাকার কারণে মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সাথে লিপ্ত হচ্ছে।
শহরের একটি সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা শহররের বিভিন্ন অলিগলিতে ওঁৎ পেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।যা পর্যটন খাতে চরম বির্পযয় বলে মনে করছেন সমাজের সচেতন নাগরিক মহল।
তথ্যমতে, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত জেলায় মামলা রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজার ৩৭টি। তৎমধ্যে বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের রুজুকৃত মামলাও রয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বিঘœ অপরাধের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৩০টি। তৎমধ্যে খুনের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে ২১৯টি। এছাড়া ধর্ষনের অভিযোগে ১৭৪টি, ডাকাতি, দস্যুতা ও অপহরণে ১১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতনে ৭২৯টি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৪৮টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ এই পুলিশ সুপারের কর্মকালীন সময়ে শুধু ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঘটেছে কয়েক হাজার। যা স্বাধীনতার পর থেকে অন্তত কক্সবাজারে এই রকম জগণ্যতম ছিনতাইকারির উৎপাত চোখে পড়েনি। স্থানীয় লোকজন আরো জানান, শহর ও পর্যটন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে থানার ওসি পরার্মশ দিত হারানো ডায়েরী করার। এই বিষয়ে অনেক ভুক্তভোগির অভিযোগে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে শহরে অন্তত অর্ধশত স্পটে ছিনতাই হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, এবং বিভিন্ন অলিগলিতে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ছিনতাই কাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের অনেক সময় হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না। শহরের বার্মিজ মার্কেট, বিমানবন্দর সড়ক, কবিতা চত্বর, শৈবাল রোড়, ঘোনারপাড়া,গোলদিঘির পাড়,খুরুশকুল রাস্তা মাথা, বৌদ্ধ মন্দির রোড়, লাইটহাউজ পাড়া,কলাতলি রোড় সহ সমুদ্রের বিভিন্ন পয়েন্ট ওঁৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। কক্সবাজার পর্যটননগরী হওয়ায় পর্যটকদের ভীড় থাকে। তাই ছিনতাইকারীরা রাতে সমুদ্র সৈকতে ঘোরাফেরা করে এবং পর্যটকরা ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকাসক্ত যুবক বলেন, বেকারত্বের কারনে সঙ্গদোষে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছি। আর এই মাদক সেবনের জন্য আমরা ছিনতাই, চুরি সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছি। সে আরও বলেন সরকার যদি আমি এবং আমার মত আরও মাদকাসক্তের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাহলে তারা স্বাভাবিক জিবনে ফিরে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের প্রায় সবাই মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শহরে বেড়ে চলছে ছিনতাই অজ্ঞানপাটির কার্যক্রম। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয় না। ফলে তাদের তৎপরতা দিন দিন বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ভাবে চলতে থাকলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে প্রশানিক সাঁড়াশি অভিযান বাড়ানোর দাবী জানান।
কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বিষফোড়া হয়েছে । ৫বছর হতে চলেছে তাদের প্রত্যাবাসন এখানো হয়নি। তাদের কারনে আজকে দেশে মাদকের আগ্রাসন বেড়েছে। তারা এখন সুবিধামতো মায়ানমারে গিয়ে মাদক নিয়ে আবারো বাংলাদেশে ফিওে আসছে আমাদের তা ঠেকাতে হবে।