আজ, মঙ্গলবার | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



চকরিয়া শাহ উমর মাজারে অনৈসলামিক কর্মকান্ড বন্ধে কাকারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

 

শাহ উমর মাজারে অনৈসলামিক কর্মকান্ড বন্ধে
কাকারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

চকরিয়া উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন হযরত শাহ উমর ( রা:) এর মাজার। সমগ্র দেশে এটার পরিচিতি রয়েছে বেশ। সারাবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে জেয়ারতের জন্য আসেন। এটা উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থিত। স্হানটি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয়। হযরত শাহ উমর ( রা:) প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর পুর্বে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করে মগ রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে উক্ত স্হানে ইন্তেকাল করেছিলেন বলে সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ আছে। তিনি হযরত শাহ জালাল, শাহ পরান, শাহ মাখদুম ( রা:) গণের সাথে সুদুর ইয়েমেন থেকে এদেশে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন বলেও সরকারি-বেসরকারী সব বই পুস্তক, দলিল দস্তাবেজে উল্লেখ আছে। এই বিষয়ে দেশের কোনো পক্ষের কোনো আলেম ও ইতিহাস গবেষকদের দ্বিমত কখনো পাওয়া যায় নি। চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় কবরস্থানটা মাজারের সাথে লাগোয়া। সেখানে শত শত বছর ধরে লাখো লাখো মুসলিমদের কবরস্থ করা হয়েছে। এখনো হচ্ছে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে, প্রতি বছর এই মাজারে ওরশের নামে বিশাল মদ, গাজা সহ যাবতীয় নেশা জাতীয় দ্রব্যের বাজার বসে, জুয়ার আসর বসে, হাজার হাজার নারী পুরুষ নেশা করে উন্মুক্ত নৃত্য, গান বাজনা, অবাধ যৌনাচার সহ সীমাহীন ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। পৃথিবীর কোথাও মুসলমানদের পবিত্র মাজার ও কবরস্থানে এমন নজিরবিহীন আসামাজিক কার্যক্রম হয় বলে জানা নেই। এমনকি কোনো হিন্দু- বৌদ্ধদের শ্মশানে, ইহুদি- খ্রীষ্টানদের কবরস্থানেও এই অপকর্ম সংঘঠিত হয় না।

এমতাবস্থায় কাকারা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সর্বজনাব শাহাব উদ্দিন সাহেব যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই রাষ্ট্রবিরোধী, নৈতিকতা বিরোধী অপরাধমূলক ওরশ মাহফিলকে শান্তিপূর্ণ ইসালে সওয়াব মাহফিল ও জিকির মাহফিলে রুপান্তরিত করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা আপনার এই ঐতিহাসিক, সময়োপযোগী শান্তিপূর্ণ উদ‍্যোগকে অত‍্যন্ত সাধুবাদ জানাই। দেশের ধর্মপ্রাণ জনসাধারণ, সচেতন মহল আপনার এই উদ্যোগের ভূয়সি প্রশংসা করে যাচ্ছেন। আপনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ নেশা থেকে মুক্তি পাবেন, অসংখ্য যুবতী যৌনাচার থেকে রেহাই পাবেন। সর্বোপরি, বিশাল কবরস্থান শায়িত লাখো লাখো কবরবাসির আত্মা শান্তি পাবেন। এই মহান উদ‍্যোগ আপনার জান্নাত প্রাপ্তির পথ সুগম করতে পারে নিঃসন্দেহে। আপনার সফলতা কামনা করছি কায়মনোবাক্যে।