আজ, মঙ্গলবার | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ায় সড়কের জমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ

দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক কক্সবাজার, চট্টগ্রাম মঞ্চ ও দৈনিক বাঁকখালীসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে “চকরিয়ায় সড়কের ৯ কোটি টাকার জমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণ শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সংবাদের সাথে বাস্তবতার কোন মিলনাই। এলাকার কিছু কুচক্রি মহল ও ভূমিদস্যুরা আমার ভোগ দখলীয় জমি জবর দখলে নিতে এসব মিথ্যাচার চালিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে; আমি সরকার বা সড়ক বিভাগের কোন জমি দখল করিনাই এবং করছিওনা। কাগজে-কলমে আমার যে পরিমাণ জমি রয়েছে, সেই পরিমান জমি ইতিমধ্যে প্রশাসন সরজমিনে এসে ডিমাকেশন দিয়েছে, যেখানে লাল কাপড়ে খুটিও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া খুটির অনেক ভেতরে আমার নির্মাণকাজ চলছে, যেখানে কারও জমি থাকার কথা নয়। আমি একজন প্রবাসী, ভূমিদস্যুতা করার মত সময় যেমন আমার নেই, তেমনি ভূমি জবরদখল করার মত লোকও নই। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তারা মূলত ভিত্তিহীন অভিযােগ করেছেন। কারণ ৩৪০/১৪ অপর মামলাটি জেলা জজ আদালতে আমি বাদী হয়ে করেছি, বর্তমানে নির্মাণাধীন জায়গা নিয়ে তারা মামলা করার বিষয়টি অবান্তর। বর্তমান জমজম হাসপাতালও আমার খতিয়ানভুক্ত জায়গার উপর দিয়ে চলাচল করছে। আমি চাইলে তাদের বাধা দিতে পারি, কিন্ত জনস্বার্থে দিচ্ছিনা।
জমির মালিকানা বিষয়ে বর্ণনা: নালিশী আর.এস খতিয়ান নং- ১৪১, আর.এস দাগ নং- ৫৬৫, বি.এস খতিয়ান নং- ৩৩, বি.এস দাগ নং- ৭৩৬, ৭৫৪, ৭৫৫, ৭৫৮, আর.এস রায়ত লতিবা খাতুন ৫ আনা ৬ গন্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি অংশে ০.৯১ একর, মফিজা খাতুন ৫ আনা ৬ গন্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি অংশে ০.৯১ একর ও জমিলা খাতুন, ৫ আনা ৬ গন্ডা ২ কড়া ২ ক্রান্তি অংশে ০.৯১ একর; সর্বমােট জমির পরিমাণ: ২.৭৩ একর।
১। লতিবা খাতুন মরণে তৎ স্বত্বাংশ তিন পুত্র আমিনুল ইসলাম, শামশুদ্দোহা ও নুরুল ইসলাম প্রাপ্ত হয়। নুরুল ইসলাম তাহার প্রাপ্ত সম্পূর্ণ জমি বিগত ০৫/০৬/৫০ইং তারিখের রেজিঃযুক্ত ৮৬৫নং কবলামূলে গোল ফরাজ চৌধুরানীর নিকট বিক্রয় করেন। উক্ত গোল ফরাজ চৌধুরানী ১৭/০৮/৫৭ইং তারিখের ৩২৭৪নং কবলামূলে এই জমি আমিনুল ইসলামের বরাবরে বিক্রি করেন। শামশুদ্দোহা তাহার প্রাপ্ত সম্পূর্ণ জমি ১১/০৭/৫৬ইং তারিখের ১৩৫৬নং কবলা মূলে আমিনুল ইসলামের বরাবরে বিক্রয় করেন। উক্ত মতে লতিবা খাতুনের ত্যাজ্য ০.৯১ শতক জমি উত্তরাধিকার সূত্রে ও তাহার দুই ভাইয়ের নিকট হইতে খরিদ, দর খরিদ সূত্রে আমিনুল ইসলাম মালিক দখলদার হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, আর.এস ১৪১নং খতিয়ানে ৫৬৫নং দাগে মোট ২.৭৩ জমির মধ্যে আপোষ দখল মতে আমিনুল ইসলাম উত্তরাংশে মুফিজা খাতুন মধ্যাংশে ও জমিলা খাতুন দক্ষিনাংশের জমিতে দখলকার ছিল। এমতাবস্থায়, আর.এস রায়ত মুফিজা খাতুন এবং আমিনুল ইসলাম তাহাদের টাকার প্রয়োজনে ১.৩৬ একর জমি বিক্রি করার প্রস্তাব করিলে এ কে এম মকছুদ আহমদ পিতা: সিরাজুল হক চৌধুরী নামক ব্যক্তি এই জমি খরিদে রাজী হয়। তত্মর্মে আমিনুল ইসলাম ও মুফিজা খাতুন বায়না গ্রহণে ১৫/০১/১৯৭২ইংরেজী তারিখে বায়নানামা সম্পাদন করেন ও জমি এ কে এম মকছুদ আহমদের বরাবরে দখল ছাড়িয়া দেয়। তাহারা পরবর্তীতে বায়নার বাদ বাকী টাকা গ্রহণ করতঃ বিগত ১৪/০৬/৭৫ইং তারিখে রেজিঃযুক্ত ২৪১৩ নম্বর কবলামূলে উক্ত এ কে এম মকছুদ আহমদ বরাবরে ১.৩৬২ একর জমি সাফ কবলা দলিল রেজিঃ করিয়া দেন। এখানে উল্লেখ্য যে, মুফিজা খাতুনের পুত্র জয়নাল আবেদীন ১৪/০৬/৭৫ইং তারিখের রেজিঃ যুক্ত ২৪১৩ কবলায় সাক্ষী আছেন। এই দলিলে মুফিজা খাতুনের ৬৮ শতক ও আমিনুল ইসলামের ৬৮ শতক জমি বিক্রি হইয়া যায়। ৮মুফিজা খাতুনের নিকট আর ২২ শতক ও আমিনুল ইসলামের নিকট ২২ শতক জমির স্বত্বছিল। মুফিজা খাতুন উক্ত ২২ শতক জমি বিগত ১৮/১১/৭৪ইংরেজী তারিখে ৩৩০২নং কবলামূলে মোঃ কালু ও গোল সেহেরের বরাবরে বিক্রয় করেন। এইভাবে মুফিজা খাতুন খতিয়ানে স্বত্ব দখল হইতে সম্পূর্ণ রূপে নিঃস্বত্ববান হইয়া যান। উল্লেখ্য যে, এই কবলায় মুফিজা খাতুনের অপর পুত্র জালাল উদ্দিন স্বাক্ষী আছেন। এই কবলায় জমি আমিনুল ইসলাম পূর্বে উল্লেখিত ১৫/০১/৭২ইং তারিখের বায়নানামা ও তৎপোষ্যকে ১৪/০৬/৭৫ইং তারিখের ২৪১৩নং কবলামূলে মুফিজা খাতুনসহ এ কে এম মকছুদ আহমদ বরাবরে তাহার বিক্রি বাদ বাকী জমিতে ২২শতক মালিক স্বত্বাধিকারী অবস্থায় উক্ত আমিনুল ইসলাম তাহার টাকার প্রয়োজনে বিগত ৩০/০৯/৯৫ইং তারিখেল রেজিঃযুক্ত ৪১৭০নং কবলামূলে এই জমি মোহাং ওসমান আলী চৌধুরী এডভোকেট বরাবরে বিক্রি করতঃ নিঃস্বত্ববান হইয়া যায়। এ কে এম মকছুদ আহমদ তাহার পূর্বে উল্লেখিত খরিদা জমি বিগত ২৭/১১/৭৬ইং তারিখের রেজিঃযুক্ত ৩৬৯১, ৩৬৯২, ৩৬৯৪, ৩৬৯৬নং এই চার কিতা কবলা মূলে যথাক্রমে মোহাং ছৈয়দ হানিফ, জিব্রাইল আমিন, হায়দার আলী, মোহাং ওসমান আলী, আনোয়ারা বেগম এর বরাবরে বিক্রি করতঃ নিঃস্বত্ববান হইয়া যায়।
পরবর্তীতে জমির খাজনা আদায় ও পরিচিহ্নিত করণের সুবিধার্থে সরকারী আইন মোতাবেক এই বায়াদারগণ ১৯৯৬-৯৭ইং সনের ১১৭(১) নম্বর নামজারী জমাভাগ মোকদ্দমামূলে পৃথক খতিয়ান করাইয়া লয়। তত্মতে এই বায়াদারগণের জমি সরেজমিন পরিমাপ চিহ্নিত করণ পূর্বক বি.এস ৭৩৬ দাগে ৮৬ শতক, বি.এস ৭৫৪ দাগে ৪৪ শতক ও ৭৫৫ দাগের আন্দর পশ্চিমাংশে ২৭ শতক মোট ১.৫৭ শতক জমি লইয়া ৩৩১নং বি.এস জমাভাগ খতিয়ান সৃজিত হয়। মোহাম্মদ শফি উল্লাহ স্বত্ববান মর্মে বিশ্বাস জন্মাইয়া অধিন মোহাম্মদ এহেছানের নিকট হইতে আশি লক্ষ টাকা পণমূল্য গ্রহণ করিয়া বিগত ১৭/০৭/২০০৭ইং তারিখের ২৮৫৬নং রেজিঃযুক্ত কবলামূলে ৪০ শতক জমি মোহাম্মদ এহেছানকে বিক্রয় করেন। যাহা পণশূন্য কবলা হয়। পরবর্তী মোহাং ছৈয়দ হানিফ, হায়দার আলী, মোহাং ওসমান আলী, আবদুর রহমান সিদ্দিকী বিগত ১৪/০৮/২০০৭ইং তারিখের রেজিঃযুক্ত ৩১৬৮নং কবলামূলে ৩২ শতক জমি মাহাম্মদ এহেছানকে বিক্রয় করেন ও একই তারিখের রেজিঃযুক্ত ৩১৬৯নং কবলা মূলে ৬৪ শতক জমি মোহাম্মদ এহেছানকে বিক্রয় করেন। মোহাং জিব্রাইল আমিন ২৫/০৭/২০১০ইং তারিখের রেজিঃযুক্ত ৪৪১০ কবলামূলে ২৪ শতক জমি মোহাম্মদ এহেছানকে বিক্রয় করেন। এনিয়ে ৮৬২নং নাসজারি জমাভাগ খতিয়ান প্রচার আছে। এরই প্রেক্ষিতে মাতামুহুরী নদীর উপর দুইটি নতুন ব্রীজ নির্মাণের লক্ষ্যে বিএস ৭৩৬ দাগে ১৫শতক, ৭৫৪দাগে ৮শতক অধিগ্রহণ করে। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উর্ধতন কর্মকর্তারা সার্ভেয়ার সহকারে সরেজমিনে চিহ্নিত করে দেয়ার পর আমার ভোগ দখলীয় খতিয়ানভুক্ত জমিতে সংস্কার কাজ করছি। তাই আমি প্রকাশিত উক্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারি- আলহাজ মোঃ এহছান (দুবাই এহেছান),
৮ নম্বর ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা, চকরিয়া- কক্সবাজার।