আজ, বুধবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



চকরিয়ায় চোরাইকৃত স্ক্রাপ মালামালসহ ২জন গ্রেফতার, জেল হাজতে প্রেরণ

চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চোরাইকৃত স্ক্রাপ মালামালসহ ২জনকে হাতে-নাতে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এঘটনায় চকরিয়া পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের কোচপাড়া এলাকার আবদু ছমদের পুত্র ও থানা রাস্তার মাথাস্থ শাহ ওমর এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এতে আসামী করা হয়েছে; ধৃত আসামী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রাজারবিল নয়াপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ শহিদুল্লাহ (৩০), ধৃত আসামী খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া গ্রামের স্ক্রাপ দোকান মালিক আবদুর রশিদের পুত্র মোঃ সালা উদ্দিন (২৭) ও তার ভাই মোঃ মনির (২৪) সহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে।

আবদুল মন্নান জানান, থানা রাস্তার মাথাস্থ বিদ্যুৎ সাবষ্টেশনের পাশে’মেসার্স শাহ ওমর এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন-পুরাতন জাহাজ কাটা মালামাল ক্রয় করে এনে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে গুদামে মালামাল সংরক্ষণ পূর্বক ব্যবসা করে আসছেন। ১নং আসামী শহিদ উল্লাহ তার দোকানের কর্মচারী। সেও বিগত ১৪/১৫ বছর ধরে চাকুরী করছেন। মাঝে মধ্যে দোকানের মালামাল পরিদর্শনে গুদামে গেলে স্টকে মালামাল কম দেখতে পান তিনি। বিশেষ করে গত ৮ মাস ধরে মালামাল চুরির বিষয়টি তার নজরে আসলে তখন থেকে চোর চিহ্নিত করার চেষ্টা চালান। দোকানের কর্মচারী শহীদুল্লাহ দোকানের যাবতীয় মালামাল দেখাশোনা-রক্ষণাবেক্ষণ করার কারণে গুদামের চাবি নিয়ে মালামাল আনা-নেওয়া করতেন। এ সুযোগে শহীদ উল্লাহ বিগত প্রায় ৭/৮ মাস ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন মালামাল সুকৌশলে চুরি করে অন্যত্র স্ক্র্যাপ দোকানে বিক্রি করে আসছে। সর্বশেষ চলতি ২৪জুলাই সকাল ৮ ঘটিকার দিকে গোডাউন থেকে প্রায় ৫,৬২,৯০০ টাকার নতুন-পুরাতন জাহাজ ভাঙ্গা মালামাল চুরি করে ২ং আসামী সালাহ উদ্দিনের ফাঁসিয়াখালীর হাঁসেরদীঘিস্থ দোকানে বিক্রি করে দেন এবং এই চুরি কাজে উৎসাহিত করতে তার পরোক্ষ ঈন্ধনও ছিল।
ব্যবসায়ী আবদুল মন্নান জানান, ইতিপূর্বেও ২০২২ইং ও ২০২৩ইং সালে একই কায়দায় তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮,৬৬,৯০০টাকার মালামাল চুরি হয়।
মূলত মোবাইল ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরেই শহিদুল্লাহকে ধরে পুলিশ কর্তৃত জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে চুরির কথা স্বীকার করে এবং চুরি করা মালামাল ২নং ও ৩নং আসামীর দোকানে মজুদ রাখার কথা স্বীকারোক্তি দেন। এরপর থানার অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশ এসআই মোঃ সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ টীম ২৭জুলাই দুপুরে অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত
কিছু পরিমাণে মালামাল সালাহ উদ্দিনের দোকান থেকে জব্দ করেন এবং চুরির অপরাধে দুইজনকেই আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এঘটনায় আবদুল মন্নান বাদী হয়ে ২৮ জুলাই ৪৬১,৩৮০, ৪১১ ধারায় মামলা নং- ৬১,জিআর ৩৬৭/২৩ দায়ের করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক আবদুল মন্নান জানান, চোরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তাকে সর্বোচ্চ আইনী সহায়তা দিয়েছেন। হাতেনাতে চোর ধরা পড়ার পর পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাই যেকোন ধরণের মিথ্যাচার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য
আহ্বান জানান। তিনি থানা পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ মাহমুদ জানান, সে যেই হোকনা কেন আইনি সহায়তা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। তাই সকলের জন্য পুলিশ প্রশাসনের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চোরাইকৃত মালামালসহ দুইজনকে আটক করা হয়। বাদীর দেয়ার এজাহারটিই মামলা হিসেবে রুজু হয়। চোরাই মালামালসহ ধৃত ও স্বীকারোক্তির পর কারো চাপের মুখে কিংবা অন্যকোন কারণে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তাই ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।