আজ, সোমবার | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ



পেকুয়ায় সন্তানের সামনে ছুরিকাঘাত করে স্ত্রীকে খুন, ঘাতক স্বামী রজিউল্লাহ আটক

পেকুয়া প্রতিনিধি ঃ 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানের সামনেই স্ত্রী ছালেহা বেগম (২৫) কে ছুরিকাঘাতে করে হত্যা করে স্বামী রজিউল্লাহ (২৮)। এসময় ছালেহাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বোন তানজিনা আফরিনও (২৪) আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছালেহা বেগম।
ছবি ঃ নিহত স্ত্রী ছালেহা বেগম।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার  দিকে উপজেলার বাইম্যাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা স্বামী রজিউল্লাহকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ছালেহা বেগম কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। আটক রজিউল্লাহ রজি একই উপজেলার দক্ষিন ধুরুং ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার শামসুল আলমের ছেলে।

ছবি ঃ খুনি রজিউল্লাহ রজি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছালেহা বেগম ও তার ছোট বোন তানজিনা আফরিন স্বামীসহ কক্সবাজার এক বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে কুতুবদিয়ায় বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হন। তারা চকরিয়া পৌঁছে সিএনজি করে মগনামা লঞ্চঘাট যাওয়ার পথে পেকুয়া সদরের পুর্ব বাইম্যাখালী বড় কবরস্থান সংলগ্ন জায়গায় স্বামী রজিউল্লাহ সিএনজি গতিরোধ করে। এ সময় গাড়ির ভেতরে ঢুকে ধারালো ছোরা দিয়ে ছালেহা বেগমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সে। এসময় গাড়িতে থাকা নিহতের ছোট বোন আফরিন বোনকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে জখম করার সময় তাঁদের বড় ছেলে রাজিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রজিউল্লাহ মোটর সাইকেল নিয়ে একটি সিএনজি গাড়ি তাড়া করে। এসময় মোটর সাইকেলে তার ছেলেও ছিল। ছেলের সামনে মা ও খালাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে আহত করে। উত্তেজিত জনতা এ সময় হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয়দের হাতে আটক থাকাবস্থায় রজিউল্লাহ জানান, স্ত্রী এক ছেলের সাথে পরকিয়ায় আসক্ত ছিল। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি স্ত্রীকে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করেছে।

এ ব্যাপারে আহত ছালেহার ভাই শফিকুল ইসলাম মিশু জানিয়েছেন, রজিউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে পরকিয়ায় আসক্ত থাকায় ছালেহাকে প্রায় সময় মারধর করত। এ ব্যাপারে থানায় মামলা পর্যন্ত হয়েছিল। পরকিয়ার মাধ্যমে এক মহিলাকে বিবাহ করেছে রজিউল্লাহ। তারপরও আমার বোন নিজের দুই ছেলের দিকে তাকিয়ে সংসার করতে চেয়েছে। আগেও বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বোন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা, গত কয়েকদিন আগে আমার বোনের কাছ থেকে প্রকল্পের সরকারি টাকা রজিউল্লাহ ২ লাখ টাকা নিয়ে নেয়। এরপর আমার বোন থানায় অভিযোগ করেছে। আগামী ১৪ তারিখ থানায় এ ব্যাপারে বৈঠক বসার কথা রয়েছে এবং ঐ দিনই আমার বোন তাকে ডিভোর্স দেয়ার কথা ছিল।

মূলত থানায় অভিযোগ করার কারণে  আমার অপর বোনের সাথে বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ঘাতক খুনি রজিউল্লাহ কোন কারণ ছাড়া আমার দুই বোন ও এক বোনের স্বামীকে ছুরিকাঘাত করেছে। চুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বোন ছালেহা ১২ মে রাত ১২ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। আমি আমার বোনের ঘাতক খুনি রজিউল্লাহর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।

আটক রজিউল্লাহ পেকুয়া পশু হাসপাতালের কর্মচারি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় জনতা আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। জখম গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাত ১টা ২০ মিনিটে মারা যান ছালেহা বেগম।

রজিউল্লাহ-ছালেহার প্রতিবেশীরা জানান, সংসারের নানা সমস্যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া লেগে থাকতো। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে ছালেহাকে হত্যা করা হয়েছে।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক স্বামীকে আটক করি। এসময় হামলায় ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করা হয়েছে। লিখিত এজাহার পেয়েছি। মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হবে।