আজ, সোমবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



নিষেধাজ্ঞার সুফল পাচ্ছেন কক্সবাজারের জেলেরা

নিষেধাজ্ঞার সুফল পাচ্ছেন কক্সবাজারের জেলেরা

সরওয়ার সাকিব

সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। ইলিশে ভরপুর কক্সবাজারে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গেলো বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ ইলিশ অবতরণ হয়েছে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে অন্যান্য মাছের সাথে ৩ শত মেট্টিন টনের বেশি ইলিশ এসেছে।

বুধবার (০৯ নভেম্বর) বেলা ১০ টায় কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে দেখা যায় শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার নোঙ্গর করা। নোঙ্গর করা এসব ট্রলারের পাশে অবস্থান করছে অসংখ্য ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। বড় ট্রলার থেকে ডিঙি নৌকায় নামানো হচ্ছে শত শত ইলিশ। এসব ইলিশ নিয়ে দ্রুত ঘাটে ভিড়ছে ডিঙি নৌকাগুলো। আর একের পর এক ইলিশ ঝুঁড়ি ভর্তি করে নামানো হচ্ছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।

ট্রলারের জেলে রফিক বলেন, ‘সাগরে গিয়ে গেলো ৭ দিন জাল ফেলেছি। জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়েছে ইলিশ। প্রায় ৪ হাজার ইলিশ নিয়ে অবতরণ কেন্দ্রের বিক্রি করার জন্য এসেছি। এখন দ্রুত এসব ইলিশ বিক্রি করে পুনরায় ট্রলারে মালামাল নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাব’।

ট্রলারের জেলে ছৈয়দ আলম বলেন, ‘সাগরে ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা খুবই খুশি। আবারো সাগরে যাচ্ছি ৭ দিনের জন্য। আশা করি, আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। কারণ সাগরে ভরপুর ইলিশ রয়েছে’।

ট্রলার মালিক আমিনুল হক বলেন, “সাগরে মাছ শিকার করে যেসব ট্রলার উপকূলে ফিরছে, প্রতিটি ট্রলারে ভরপুর ইলিশ পেয়েছে। আমার ৩টি ট্রলারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেছি। এখন লোকসান অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারব।”

অবতরণ কেন্দ্রের ৩টি পল্টুন ইলিশে সয়লাব। স্তুপ করে রাখার পরও স্থান না পেয়ে রাখা হচ্ছে খোলা মাঠে। তবে বেশি ইলিশ অবতরণ হওয়ায় দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তিতে নেই মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি; খোলা মাঠে ইলিশ রাখায় অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে তাদের মাছ।

মৎস্য ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি বন্ধের কারণে সাগরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যার কারণে অবতরণ কেন্দ্রে বেশি ইলিশ অবতরণ হওয়ায় মাছের দাম কিছুটা কমেছে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষের পর এক সপ্তাহে সাড়ে ৩’শ মেট্রিক টনের অধিক সামুদ্রিক মাছ অবতরণ কেন্দ্রে অবতরণ হয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র ইলিশ রয়েছে ৩ শত মেট্রিক টনের বেশি। গতবছর এসময়ে যে পরিমাণ মাছ অবতরণ হয়েছিল, তার চেয়ে দ্বিগুণ মাছ এবার অবতরণ কেন্দ্রে অবতরণ হয়েছে। এতে বুঝা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। যার সুফল এখন জেলে থেকে শুরু করে সবাই পাচ্ছে।

ব্যবস্থাপক মো. বদরুদ্দৌজা আরও বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের জেটি এবং পল্টুন এরই মধ্যে সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে জাইকা কাজ শুরু করছে। তারা মৎস্য অবতরণ আধুনিকায়নের পাশাপাশি ২টি জেটি ও অনেকগুলো শেড নির্মাণ করবে। ফলে সব সমস্যার সমাধান ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাবে।